Tuesday, 27 September 2016

লেবু রসের ১০টি স্বাস্থ্য উপকারিতা





এ সপ্তাহে সাপ্তাহিক স্বদেশ খবর পাঠকদের জন্য মানব জীবনের প্রাত্যহিক সমস্যা সমাধান করার সহজ কিছু টিপস তুলে ধরেছেন ডিআইইউ’র প্রভাষক
সুলতানা বেগম
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরেই লেবুর উপকারী গুণাগুণ মানুষের জানা। এর মাঝে একটা প্রধান উপকারিতা হলো ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ইত্যাদির তৈরি করা রোগ বালাই দূরীকরণ এবং শরীরের সার্বিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি। আরেকটা হলো হজম শক্তি বাড়ানো এবং যকৃৎ পরিষ্কারের মাধ্যমে ওজন কমানোর ক্ষমতা। লেবুতে সাইট্রিক এসিড-এর পাশাপাশি আরও রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, বায়োফ্লাভোনোয়েড, পেক্টিন এবং লিমোনিন। সকালে এক গ্লাস গরম পানির সাথে লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে এসব উপকার সর্বাধিক মাত্রায় পাবে আপনার শরীর। গরম পানি কেন? কারণ ঠাণ্ডা পানির চাইতে গরম পানি শরীরে শোষিত হয় অনেক দ্রুত এবং এর থেকে তত বেশি উপকৃত হবেন আপনি। এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে অর্ধেকটা লেবুর রস মিশিয়ে পান করতে পারেন। আর সকালে উঠে অন্য যে কোনো কাজ করার আগেই এটা পান করবেন। তাহলেই পাবেন এর উপকারিতা।
এর অসাধারণ সব উপকারিতা
১. হজমে সহায়ক : শরীর থেকে অযাচিত পদার্থ এবং টক্সিন বের করে দেয় লেবুর রস। আমাদের হজমের জন্য ব্যবহৃত লালা এবং পাচক রসের সাথে বেশ মিল আছে এর গঠন এবং কাজের। আর যকৃত থেকে হজমে সহায়ক এক ধরণের পদার্থ নিঃসরণেও এটি সহায়তা করে।
২. ডাইইউরেটিক হিসেবে কাজ করে
শরীরে মূত্রের পরিমাণ বৃদ্ধি করে এবং এর মাধ্যমে খুব দ্রুত ক্ষতিকর এবং বিষাক্ত পদার্থ শরীর থেকে বের হয়ে যায়। এছাড়া মূত্রনালীর স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও এটি সহায়ক।
৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় : লেবুতে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও লৌহ, যা ঠাণ্ডাজ্বর জাতীয় রোগের বিরুদ্ধে ভীষণ কার্যকর। এতে আরও আছে পটাসিয়াম, যা মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুকে সক্রিয় রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এতে থাকা অ্যাসকরবিক এসিড প্রদাহ দূর করে এবং অ্যাজমা বা এ জাতীয় শ্বাসকষ্টের সমস্যা কমায়। এছাড়াও কফ কমাতে সাহায্য করে লেবু।
৪. শরীরের পিএইচ মাত্রা ঠিক রাখে : এর অর্থ হলো শরীরের অম্ল-ক্ষারকের মাত্রা ঠিক রাখে লেবু। লেবু হজম হয়ে যাবার পর কিন্তু আর অম্লীয় থাকে না, ক্ষারীয় হয়ে যায়। ফলে এটি রক্তে মিশে যায় এবং শরীরের অম্লতা বাড়তে দেয় না। অম্লতা বেড়ে গেলেই দেখা দেয় রোগ।
৫. ত্বক পরিষ্কার করে : ত্বকের কুঞ্চন এবং দাগ দূর করে লেবুতে থাকা বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বকের জন্য খুব দরকারি হল ভিটামিন সি। ব্রণ বা অ্যাকনি সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া এটি দূর করে। আর ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতেও এটি কার্যকরী।
৬. আপনার মন ভালো করে দেয় : সকালেই প্রাণচাঞ্চল্য বাড়িয়ে দিতে এর জুড়ি নেই। খাবার থেকে শক্তি শোষণের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় লেবু। আর এর গন্ধে আপনার মন ফুরফুরে হয়ে উঠবে নিমিষেই। দুশ্চিন্তা এবং বিষণœতা দূরীকরণেও এটি অসামান্য।
৭. ক্ষতস্থান সেরে ওঠার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে ক্ষতস্থান সেরে তুলতে সাহায্য করে অ্যাসকরবিক এসিড। আর হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখতেও এটি সহায়ক। স্ট্রেস এবং যে কোনো ধরণের ব্যথার উপশম করে ভিটামিন সি।
৮. নিঃশ্বাসে আনে তরতাজা ভাব : লেবুর রস নিঃশ্বাসে সতেজতা আনা ছাড়াও, এভাবে গরম পানির সাথে লেবুর রস পানে দাঁতের ব্যথা এবং জিঞ্জিভাইটিসের উপশম হয়। তবে এটা পানের পরপরই দাঁত ব্রাশ করবেন না, কারণ সাইট্রিক এসিড দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে ফেলে। আগে দাঁত ব্রাশ করে তারপর এটা পান করা ভালো। আর লেবুপানি পান করার পর বিশুদ্ধ পানি খেতে পারেন এক গ্লাস।
৯. শরীরে তরলের পরিমাণ ঠিক রাখে : রাতে ঘুমানোর সময়ে যে পানি খরচ হয় সেটা পূরণ হয়ে যায় সকাল সকাল এই এক গ্লাস লেবু পানি পানের মাধ্যমে।
১০. ওজন কমাতে সহায়ক : লেবুতে প্রচুর পরিমাণে পেক্টিন থাকে। আঁশজাতীয় এই পদার্থ ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে ওজন কমে। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের খাবারে এমন অম্লজাতীয় খাবার কম থাকে তাদের ওজন বাড়ে বেশি।

Monday, 26 September 2016

আসুন জেনে নেই আঙুরের উপকারিতা

আঙুর খেয়ে ওজন কমান-
সপ্তাহ দুয়েক প্রতিদিন বিচি ও খোসাসহ ২ কেজি আঙুর আর সাথে যথেষ্ট পরিমাণে পানি বা গ্রিন চা পান





করলে কয়েক কেজি ওজন কমানো সম্ভব। তবে সে আঙুর হতে হবে অবশ্যই কোনো রকম কেমিকেল ছাড়া পুরোপুরি অর্গানিক উপায়ে চাষ করা।এছাড়া আঙ্গুর শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়।
ফাইবার সমৃদ্ধ আঙ্গুর-
আঙুরের খোসা এবং বিচিতে রয়েছে প্রচুর ফাইবার, যা মানুষের ইমিউন সিস্টেমকে (রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা) শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।আঙুরে অনেক বেশি পরিমাণে পটাশিয়াম থাকায় যা শরীরের বাড়তি পানি কমিয়ে প্রয়োজনীয় পানির ভারসাম্য রক্ষা করতে ভূমিকা পালন করে।
অ্যান্টি এজিং (বার্ধক্য প্রতিরোধী)-
আঙুরও তারুণ্য ধরে রাখতে এবং রূপ লাবণ্য বাড়তে সাহায্য করে। শুধু তাই নয় আঙুর ক্যানসার সেলগুলোর বৃদ্ধি কমাতেও সাহায্য করে থাকে।
আঙুর থেকে তৈরী হয় ওয়াইন, যা সারা বিশ্বে খুবই জনপ্রিয়। আমাদের সংস্কৃতিতে মদ খাওয়ার প্রচলন নেই, মদ শুনলেই অনেকে আঁতকে ওঠেন।তবে পশ্চিমা ডাক্তার বা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, সামান্য পরিমাণে রেড ওয়াইন খাওয়া খুবই ভালো। অর্থাৎ প্রতিদিন রাতে আধাগ্লাস থেকে একগ্লাস রেড ওয়াইন খেলে তা হার্ট ভালো রাখতে এবং শরীরের রক্ত চলাচলও ঠিক রাখতে সাহায্য করে।বলা বাহুল্য, রেড ওয়াইন তৈরি করা হয় আঙুর থেকেই।

দ্রুত মন ভালো করার ১০ উপায়


ডায়েট বা ব্যায়াম স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য জরুরি। এর থেকেও জরুরি সুখী থাকা। তবে কোনো কারণে যদি মন খারাপ থাকে বা নিজেকে সুখী না মনে হয় তবে চিন্তিত হবেন না। ভাবুন সময়টি যদিও চাপের, তবে হঠাৎ মজার কিছু ঘটবে, ভালো কিছু হবেই আপনার জীবনে। এমন আশার কথা শুনিয়ে ইয়াহু হেলথ বাতলে দিয়েছে দ্রুত মন ভালো করার কিছু উপায়।
১. খেলা করুন (তবে ফোনে নয়)
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একত্রিত হোন, পাশাপাশি কিছু বন্ধুকে দাওয়াত করুন। এরপর সবাই মিলে মজাদার কোনো খেলা খেলুন। ভালো বন্ধুদের সঙ্গ আপনার সময়গুলোকে আনন্দে ভরিয়ে তুলতে সাহায্য করবে।
২. হাঁটতে বেরিয়ে যান
ঘরে যদি কিছু করার না থাকে, তবে মন ভালো করতে হাঁটতে বেরিয়ে যান। বাইরের তাজা হাওয়া আপনার মনকে সতেজ করবে।
৩. বন্ধুদের ফোন করুন
ম্যাসেজ করবেন না, বন্ধুর সঙ্গে ফোনে কথা বলুন। তাঁকে বলুন আপনার কষ্টের কথা। পরামর্শ চাইতে পারেন তাঁর কাছ থেকে।
৪. নতুন কিছু করুন
নেতিবাচক ভাবনা থেকে বেরিয়ে যান। নতুন কিছু করুন। জিমে ভর্তি হোন বা রান্নার ক্লাসে ভর্তি হোন। আগামীকাল সকালে উঠে নতুন কী করবেন তাঁর পরিকল্পনা করুন।
৫. বিচ্ছিন্ন হোন
এক বা দুই মিনিটের জন্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম থেকে বিছিন্ন হয়ে যান।
৬. গান গাইতে পারেন
দ্রুত মন ভালো করতে গেয়ে উঠতে পারেন পছন্দের কোনো গান। গ্যারান্টি দিচ্ছি, মন ভালো হয়ে যাবে।
৭. সাহায্য করুন
অন্যকে সাহায্য করুন। পরিবারের সদস্যদের কাজে সাহায্য করুন বা বন্ধুদের কাজে সাহায্য করুন।
৮. রাঁধুন
বেশি মন খারাপ লাগলে রাঁধতেও শুরু করতে পারেন। অনেক সময় রান্না করাও আপনার মেজাজকে ভালো করে দিতে পারে।
৯. হাসুন
হয়তো হাসার মতো পরিস্থিতি নেই, তবু চেষ্টা করুন হাসার। হাসি কখনো কখনো চাপ কমাতে সাহায্য করে, মেজাজ ভালো রাখে, বিষণ্ণতাকেও দূরে রাখে। তাই হাসুন।
১০. সব ঠিক হয়ে যাবে
ভাবুন সব ঠিক হয়ে যাবে। যদিও খুব চাপের সময় এই ভাবনাটি সহজেই আসবে না, তবু ভাবুন ‌সব ঠিক হবে।

দেশজুড়ে সকল বিভাগের অভিজ্ঞ ডাক্তারদের খোঁজ পেতে ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ভিজিট করুন www.doctorola.com অথবা কল করুন 16484 নম্বরে। Doctorola.com বাংলাদেশের প্রথম অনলাইন ও কল সেন্টার ভিত্তিক ডাক্তার অ্যাপয়েন্টমেন্ট সার্ভিস।

চাকরিজীবীদের স্বাস্থ্য টিপস

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে হাতের কাছে খাবার পানি রাখা, বাসায় রান্না করা খাবার নিয়ে অফিসে যাওয়া ইত্যাদি বিষয়ের প্রতি যত্নবান হতে হবে।
চাকুরিজীবীদের জন্য বিশেষ কিছু স্বাস্থ্য উপদেশ দিয়েছেন হেল্থকেয়ার স্টার্টআপ হেল্পমেডক ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা শুভ্র ঘোষ।
পানির বোতল সঙ্গে রাখা
দীর্ঘসময় ধরে কাজ করার সময় পানি খাওয়ার কথা ভুলে যান অনেকেই। তাই সবসময় সঙ্গে একটি পানির বোতল রাখা এবং কিছুক্ষণ পরপরই পানি পান করা উচিত। পাশাপাশি ফলের রসও গ্রহণ করা যেতে পারে।
ঘরে তৈরি খাবার খাওয়া
শরীর ভালো রাখতে ঘরে তৈরি বিভিন্ন সালাদ বা স্বাস্থ্যকর খাবারের কোনো বিকল্প নেই। ঘরে খেতে পারলে তো ভালোই। তবে কাজের ব্যস্ততার কারণে অনেকের ক্ষেত্রেই তা সম্ভব হয় না। তাই বাইরে খাওয়া কমিয়ে বাসা থেকে তৈরি খাবার অফিসে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা কার উচিৎ।
বিরতি নিয়ে কাজ করা
তাড়া যতই থাকুক প্রতি এক ঘণ্টা কাজ করার পর একদু্ই মিনিট চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নেওয়া উচিৎ। এতে মস্তিষ্ক পরিষ্কার হয় এবং সচল থাকে।
চেয়ারে বসায় সাবধানতা
দীর্ঘসময় ধরে চেয়ারে বসে থাকার কারণে মেরুদণ্ডের ক্ষতি হয়। তাই চেয়ারে বসার সময় সামনে ঝুঁকে না থেকে হেলান দিয়ে বসার অভ্যাস করুন। আর খেয়াল রাখুন পিঠ যেন চেয়ারে হেলান দেওয়ার সঙ্গে সোজা থাকে।
পর্যাপ্ত ঘুম
শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় আধা ঘণ্টা কম ঘুমানো আপনার স্বাস্থ্য, মানসিকতা এবং কাজের উপর অল্প এবং  দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নিয়মিত কমপক্ষে আট ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি।
চা, কফির বদঅভ্যাস
চা, কফি, কোমল পানীয় ইত্যাদি ঘুমের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এগুলো থেকে বিরত থাকা উচিৎ। পরিবর্তে সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস ফলের শরবত বা গ্রিন টি খাওয়া যেতে পারে।